কাগজে ১১০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে নেই একজনও, শ্রেণিকক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাগল
যোগফল প্রতিবেদক:
বিদ্যালয় আছে, ভবন আছে, কাগজে-কলমে ১১০ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকাও রয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া গেল ভিন্ন চিত্র। বিদ্যালয়ের কোনো শ্রেণিকক্ষেই নেই শিক্ষার্থী। বরং শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাগল, ছড়িয়ে আছে মলমূত্র। জরাজীর্ণ হোয়াইট বোর্ডে জমেছে ধুলোবালি, রয়েছে মাকড়সার জাল।
এমন চিত্র দেখা গেছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের পশ্চিম বাদুরতলা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও অফিস কক্ষে তালা ঝুলছে। বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীও ছিল না। পরে দুপুর ১২টার দিকে প্রধান শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তারা শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখাতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থী না থাকলেও কাগজে-কলমে ১১০ জন শিক্ষার্থী দেখিয়ে সরকারি বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে প্রতি মাসে সরকারের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অডিট বা তদন্ত দল বিদ্যালয়ে এলে ঝালকাঠি শহর থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে বাইরের শিশুদের এনে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘স্থানীয় দু-চারজন ছাড়া কেউ আসে না, তাই ঝালকাঠি শহর থেকে গাড়ি ভাড়া করে শিক্ষার্থী আনি।’
বিদ্যালয়টিকে ঘিরে পরিবারতন্ত্র ও অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবুবকর সিদ্দিকের পরিবারের পাঁচজন সদস্য স্কুলটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু তার ভাইয়ের ছেলে মিজানুর রহমান পারভেজকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক দুই সভাপতি হাসনাইন তালুকদার দিবস ও জাহিদুল ইসলাম জাহিদ অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী না থাকা এবং তাদের স্বাক্ষর জাল করে সরকারি অনুদানের টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান পারভেজের কাছে বিদ্যালয়ের বেহাল দশা ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এদিকে, সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান শিক্ষক এক সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে প্রধান শিক্ষককে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিদ্যালয়টিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, ব্যাখ্যার জবাব সন্তোষজনক না হলে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন